ফাইল ছবি
রোমানিয়ার বিপুল সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার ধ্বংসে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে পুরানো অসাধু চক্র। দূতাবাসের শ্রম উইং এর নিরলস প্রচেষ্টায় সৃষ্ট জটিলতা নিরসন হওয়ায় বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য রোমানিয়ার শ্রমবাজারে আবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেই বাজার ধ্বংসে দূতাবাসের সাবেক রাষ্ট্রদূতের ঘনিষ্ঠ রোমানিয়ায় অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের এই কায়েমি চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
এই চক্র ভূয়া কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিটে বাংলাদেশের কর্মীদের সে দেশে নিয়ে গেছে। কর্মীদের বেশিরভাগ কাজ না পেয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। অথচ এই চক্র রোমানিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার জন্য বাংলাদেশের কর্মীদের পালিয়ে যাওয়াকে দায়ী করে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশটির শ্রমবাজার বন্ধের জন্য বাংলাদেশের কর্মীদের দায়ী করা হলেও বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওই চক্রই দায়ী। তাদের কারণে বাংলাদেশের কর্মীরা পালিয়ে গেছে বা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
রোমানিয়ায় বাংলদেশের এম্বাসির প্রথম শ্রম সচিব মোহাম্মদ মহসীন মিয়া দাবি করেছেন তার নিরলস প্রচেষ্টায় শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসায় দূতাবাসের এক কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই চক্র তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।
রোমানিয়ায় অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের ওই অসাধু চক্রের মাধ্যমে অস্থিত্বহীন কোম্পানির ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে রোমানিয়ায় যাওয়া বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়ে। রোমানিয়ায় পা দেওয়ার পরপর সেই দেশ ছেড়ে কর্মীরা পালিয়ে যায় এমন প্রচারণা ব্যাপকভাবে চালানো হয় এবং এর জন্য বাংলাদেশের কর্মীদের দোষারোপ করা হলেও বাস্তবে ওই অসাধু চক্রের কারণে তারা সেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টেম্পোরারি রেসিডেন্স কার্ড (টিআরসি) করতে না পারার কারণে বাংলাদেশের কর্মীরা রোমানিয়া ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। টিআরসি না পাওয়ার কারণ হচ্ছে ওই চক্র নামসর্বস্ব নিয়োগকারী বা কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করেছে। রোমানিয়ায় এসে কর্মীদের অনেকে বিনিয়োগকারীকে খুঁজে পায়নি বা পেলেও কাজ পায়নি। এই কারণে বাংলাদেশের কর্মীদের অনেকে পালিয়ে গেছে বা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কাজ পেলেও সঠিক মজুরি না পাওয়া, বিনা পারিশ্রমিকে নির্ধারিত সময়ের বাইরে খাটানো, ন্যূনতম শ্রমপরিবেশ না থাকা, যথাযথ আবাসনের ব্যবস্থা না থাকা, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা, সময়মতো মজুরি না দেওয়া, নিয়োগকারী পরিবর্তন করতে চাইলে অনাপত্তি পত্র না দেওয়া প্রভৃতি সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের।
তথ্যে জানা যায়, রোমানিয়ায় এম্বাসির নজরদারি বা শ্রম উইং এর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওই অসাধু চক্র এই অপতৎপরতা চালায় এবং একটা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে।
২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দূতাবাসের শ্রম উইং চালু হয়, মহসিন মিয়াকে শ্রম উইং এর প্রথম সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রদূত না থাকায় তিনি চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেন। তার অব্যাহত প্রচেষ্টায় দেশটির শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসতে থাকে এবং বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দেয়। ওই অসাধু চক্র এই বাজার ধ্বংসের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। ওই চক্র মহসিন মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়াসহ নানা ধরনের অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি তার চরিত্র হননেরও অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এই অসাধু চক্র।
শ্রম উইংয়ের প্রথম সচিব মহসিন মিয়া বলেন,‘একটি অসাধু চক্র টাকা দিয়ে আমাকে ম্যানেজ করতে না পেরে কাল্পনিক বিষয় উপস্থাপন করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন,‘যোগদানের পর দীর্ঘ ১৬ মাস শ্রমবাজার ধ্বংস হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারে করণীয় নির্ধারণ করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অনুসন্ধানে দেখতে পাই নামসর্বস্ব, কাগুজে বা ল্যপটপ কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে ভিসা নিয়ে আমাদের কর্মীরা এখানে এসে বিপদে পড়েছেন। অস্থিত্বহীন এইসব কোম্পানিতে যোগ দিতে না পেরে হাজার হাজার কর্মী অবৈধ হয়ে গেছেন। এইসব ভূয়া কোম্পানির ওয়ার্ক পারমিট কেনাবেচার সঙ্গে রোমানিয়ায় অবস্থানকারী একটা সিন্ডিকেট যুক্ত। ’
তিনি বলেন,‘রোমানিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত এই চক্রের বেশিরভাগের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, এদের কয়েক জনের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যবসায়ীক সম্পর্ক বিদ্যমান। রাষ্ট্রদূতের অবর্তমানে দূতাবাসের এক কর্মকর্তা এই চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেছেন। রফিকুল ইসলাম ও সালমান গাজী গং গত একমাসে অন্তত ১০ বার দূতাবাসে যোগাযোগ করেছেন। তবে এইসব অসাধু ব্যক্তিদের যাতায়াতের চিহ্ন যাতে না থাকে এই জন্য সিসি ক্যামরা অকার্যকর করে রাখা হয়।’
তিনি বলেন,‘শ্রম কল্যাণ উইং এর নিয়মিত তৎপরতার ফলে রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের কর্মীদের ইমেজ সংকট কেটে যাচ্ছে। বিদেশি কর্মীর অনুকূলে সংশ্লিষ্ট অনেক বিধি পরিবর্তন করা হয়েছে, অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করার ব্যাপারে নীতিগত প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ওই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই চক্র আমার বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক অভিযোগের বর্ণনা তৈরি করে আমার চরিত্র হননের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশটি থেকে কর্মীরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজের সন্ধানে চলে যাওয়ায় কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। সদ্য বিদায়ী বছরের জন্য রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ এক লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা নির্ধারণ করে। চলতি বছর এই কোটা বাড়িয়ে ৩ লাখ করতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আগামী কয়েক বছরে এই অঞ্চলে ১০ লাখ বিদেশী কর্মীর চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় আইন অনুযায়ী কর্মীর আবাসন ও খাবারের দায়িত্ব নিয়োগকারীর। পাশাপাশি, জীবন যাত্রার ব্যয় ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা কম হওয়ায় রোমানিয়া বাংলাদেশের জন্য একটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ইমেজ পুনরুদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও শ্রম উইংকে শক্তিশালী করে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করলে পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহে সম্ভাবনাময় শ্রম বাজারের বড় একটা অংশ বাংলাদেশ নিজেদের পক্ষে নেওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। এতে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
খোকন দাস
সম্পাদক মন্ডলি
সৈয়দা পারভীন আক্তার
ফকরুদ্দীন কবীর আতিক
মোঃ ইলিয়াস হোসেন
মোঃ শাহাদাত হোসেন
পরিচালক মন্ডলি
ছিদ্দিকুর রহমান ভুঞ্রা (পরিচালক, ফিন্যান্স)
মোস্তাফিজুর রহমান (পরিচালক, পাবলিকেশন)
শান্ত দেব সাহা (পরিচালক, এইচ আর)
শাহরিয়ার হোসেন (পরিচালক, মার্কেটিং)
বার্তা সম্পাদক
মোঃ হাবীবুল্লাহ্
সিনিয়র রিপোর্টার
মোঃ জাকির হোসেন পাটওয়ারী
ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক, আরিফুর রহমান কর্তৃক
ডা. নওয়াব আলী টাওয়ার, ২৪ পুরানা পল্টন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৩২ ৪১৭ ৫১৭
Email: news@probasonnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || ProbasonNews.com