ছবি প্রবাসন নিউজ
এতো লুটপাটের পরও আমাদের অর্থনীতি টিকে আছে কৃষি, গার্মেন্টস ও প্রবাসী শ্রমিকদের কারণে। অথচ কৃষি ও গর্মেন্টস শ্রমিকদের পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকরা অবহেলিত। তারা দেশে ও বিদেশে সব জায়গায় অবহেলার শিকার। মাইগ্রেশন সেক্টরের মুখপত্র সাপ্তাহিক প্রবাসনের সঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মতবিনিময় সভায় নেতারা এই কথা বলেন।
৯ জানুয়ারী ২০২৫ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসদ (মার্কসবাদী) কার্যালয়ে জনশক্তি প্রেরণ খাতের সংস্কার বিষয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাম জোটের সমন্বয়ক ও বাসদ (মার্কসবাদী) এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহ সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, নজরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত, মানস নন্দী।
সাপ্তাহিক প্রবাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক খোকন দাস, ইউরোপ ও উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে কর্মী প্রেরণকারী রিক্রুটিং এজেন্সির সংগঠন রাবিড-এর সভাপতি আরিফুর রহমান, রাবিডের সদস্য মো.শাহরিয়ার হোসেন।
অধ্যাপক আবদুস সাত্তার বলেন,‘এখন তো পুরো বিশ্বটাই দেশ, তাই আমাদের শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে যাবে। প্রবাসে আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে।’
রুহিন হোসেন প্রিন্স সাপ্তাহিক প্রবাসনকে ধন্যবাদ জানান এই সেক্টরের সংস্কারের জন্য একটি বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরার জন্য। তিনি বলেন, ‘প্রবাসী শ্রমিকদের ইস্যুটা আমরা বাম গণতান্ত্রিক জোট এজেন্ডা হিসেবে নিয়েছি। এই বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবো।’
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন,‘অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সেক্টরের সংস্কারে বিভিন্ন কমিশন গঠন করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর নিয়ে এখনো কেন কমিশন গঠন করেনি, তা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিকে যারা বাঁচিয়ে রেখেছে সেই কৃষক, গার্মেন্টস কর্মী এবং প্রবাসী শ্রমিকরা অবহেলিত। তিনি বলেন, ‘১৬৮ দেশ তালিকাভুক্ত, আর কর্মী যাচ্ছে মাত্র ১০টি দেশে, অথচ বাকী দেশগুলোতে আমাদের এম্বাসি আছে, এই দেশগুলোতে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেই। কেবল বিমান বন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ স্থাপন করলে চলবে না, প্রবাসীদের প্রতি পদে পদে হয়রানি বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের শ্রমিকদের বিদেশে যেতে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভারতের তুলনায় বেশি টাকা দিতে হয়। দেশগুলোর কর্মীরা অনেক কম টাকায় বিদেশে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। এছাড়া আমাদের তুলনায় কম শ্রমিক পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কা বেশি রেমিট্যান্স পাচ্ছে,তা সম্ভব হচ্ছে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর কারণে। শ্রমিকদের দক্ষ করে তুলতে সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।’
রাবিড সভাপতি আরিফুর রহমান বলেন,‘ এই সেক্টর এতো বেশি অবহেলিত হওয়ার কারণ হচ্ছে প্রবাসী কর্মীরা ভোটার না, আমরা দাবি করেছি তাদের ভোটার করতে হবে। এখন অনলাইনে যে কোন জায়গা থেকে ভোট দেওয়া যায়। তাদেরকে ভোটার করা হলে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচিতে প্রবাসীদের গুরুত্ব দেবে। আমরা সবাই মিলে এটাকে দাবি হিসেবে নিয়ে আসতে পারি।’
তিনি আরো বলেন, ‘অভিবাসন ব্যায় কমানোর কথা আমরা সবাই বলছি। এই ব্যায়ের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত আছে। আমরা সৈদি আরব বা ইউরোপ থেকে যে ভিসাটা নিয়ে আসি সেটা সেখানে কয়েক হাত ঘুরে আমাদের কাছে আসতে আসতে দাম অনেক বেড়ে যায়। আবার আমাদের হাত হয়ে মিডলম্যানদের মাধ্যম হয়ে কর্মীদের হাতে যখন পৌছায় তখন এই ভিসার দাম তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা হয়ে যায়। আমরা সংস্কার প্রস্তাবে বলেছি একটা অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন ব্যবস্থায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানো যায়। কেননা, কাজের ভিসার কোন দাম থাকে না, মিডলম্যানদের কারণে দাম বেড়ে যায়। অ্যাপসের মাধ্যমে কর্মীরা সরাসরি আমাদের কাছে আসবে, আবার আমরাও নিয়োগকারী কোম্পানিকে খুঁজে বের করতে পারবে। এতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সার্ভিস চার্জ পাবে, এই পদ্ধতিতে সবাই উপকৃত হবে। জিরো কস্টে ফিমেইল মাইগ্রেশন তো হচ্ছে, মেইল মাইগ্রেশনও হতে পারে।
এই ব্যবস্থা চালুর আগ পর্যন্ত বর্তমান অবস্থাকে আরো অনেক ভালো করা যায়। বিভিন্ন দেশে যে এম্বাসি আছে আমাদের শ্রমিকদের দেখভাল করা তাদের দায়িত্ব, সেই এম্বাসিগুলো অনেক দুর্বল। সৌদি আরবে এম্বাসিতে লোক থাকা দরকার দুইশ’ পাঁচশ’, কেননা সেখানে আমাদের লাখ লাখ লোক আছে। আমরা কর্মী পাঠাচ্ছি, তারা বেতন পাচ্ছে না, কাজ পাচ্ছে না, সেটা দেখার দায়িত্ব এম্বাসির। আমরা বলেছি লেবার উইংকে শক্তিশালী করতে হবে, লোকবল বাড়াতে হবে। নিয়োগকারী কোম্পানিগুলোকে এম্বাসিতে এনলিস্ট করতে হবে। এনলিস্ট করার মাধ্যমে তাদেরকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন,‘আমাদের বাজারটা চলে যাচ্ছে, নেপাল, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশে। কারণ সেখানে দক্ষ কর্মী আছে। আমাদের বিএমইটির যে ট্রেনিং সেন্টার আছে সেখান থেকে একটা কর্মীও বিদেশ যায় না। আমরা বলেছি, কর্মী নিয়োগকারী কোম্পানির চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মীদের ট্রেনিং দিতে হবে। এছাড়া আমদের কর্মীদের ভাষা জানতে হবে একটা বিশেষ বিষয়ে কাজ জানতে হবে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিষয়টা নিয়ে আসতে হবে।’
আমাদের দেশে শিক্ষিত মেয়েদের কাজে নিযুক্ত করার উপযুক্ত ক্ষেত্র নাই। ইউরোপের দেশগুলোতে ফিমেইল কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা আছে। সেখানে নারী পুরুষ সবার সমান সুযোগ আছে। আমরা মনে করি, দেশেই সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, তবে যতো দিন না তা করা যাচ্ছে ততো দিন প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে।’
খোকন দাস বলেন,‘আমরা প্রবাসন পত্রিকার পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে এই সেক্টরের সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করছি। তারই অংশ হিসেবে আজকের এই সভা। আমরা মনে করি রাজনৈতিক দলগুলো প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থের বিষয়টা গুরুত্ব না দিলে কখনোই সমস্যা সমাধান হবে না। আপনারা বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন এই জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ’
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
খোকন দাস
সম্পাদক মন্ডলি
সৈয়দা পারভীন আক্তার
ফকরুদ্দীন কবীর আতিক
মোঃ ইলিয়াস হোসেন
মোঃ শাহাদাত হোসেন
পরিচালক মন্ডলি
ছিদ্দিকুর রহমান ভুঞ্রা (পরিচালক, ফিন্যান্স)
মোস্তাফিজুর রহমান (পরিচালক, পাবলিকেশন)
শান্ত দেব সাহা (পরিচালক, এইচ আর)
শাহরিয়ার হোসেন (পরিচালক, মার্কেটিং)
বার্তা সম্পাদক
মোঃ হাবীবুল্লাহ্
সিনিয়র রিপোর্টার
মোঃ জাকির হোসেন পাটওয়ারী
ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক, আরিফুর রহমান কর্তৃক
ডা. নওয়াব আলী টাওয়ার, ২৪ পুরানা পল্টন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৩২ ৪১৭ ৫১৭
Email: news@probasonnews.com
©২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || ProbasonNews.com